রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
নারায়ণগঞ্জ পিবিআই ক্লুলেস হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে ২জনকে গ্রেফতার করেছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চার সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা জুলাই অভ্যুত্থান অন্যয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রেরনা : ন্যাপ সিদ্ধিরগঞ্জে নিজ জমিতে নির্মাণকাজে বাধা, থানায় অভিযোগ দায়ের গ্যাস সংকট স্বাভাবিক করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করুন :ন্যাপ চেয়ারম্যান প্রার্থী তানজিরুল ইসলাম বিতারা ইউনিয়ন কে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান আর্জেন্টিনা কে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন স্পেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইএইচআরসি ট্রাস্টের নারায়ণগঞ্জ জেলা আংশিক কমিটি ঘোষণা বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন এর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে ডা: তামজিদ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বি. আর বিলকিসকে ফুলেল শুভেচ্ছা

নারায়ণগঞ্জ পিবিআই ক্লুলেস হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে ২জনকে গ্রেফতার করেছে

মোহাম্মদ মনির হোসেন:

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার গ্রুপদী এলাকায় সংঘঠিত একটি ক্লুলেস হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন নারায়ণগঞ্জ পিবিআই। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ২ জন আসামীকে গ্রেফতার সহ ছিনতাইকৃত মিশুক ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১ জন বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। হত্যাকান্ডের শিকার ওয়ালিউল্লার বাবা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছেন সরকারের কাছে। রবিবার ৯ আগষ্ট দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ অফিসে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ।
জানা গেছে, গত ৫ জুলাই দুপুরে বাবার অসুস্থতার কারণে জীবিকারতাগিদে ওয়ালিউল্লাহ অটোগাড়িটি নিয়ে বের হন। পরবর্তীতে তার ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরদিন সোনারগাঁও থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। একই দিন বিকেলে আড়াইহাজারের উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামে রাস্তার পাশে নির্জন স্থানে একটি রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে বাবা হারুন রশিদ গিয়ে তার পুত্র ওয়ালিউল্লাহর লাশ সনাক্ত করেন। দুষ্কৃতকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, বাম চোখ উপড়ে ফেলে এবং পেটে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে অটোগাড়ি ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। পিবিআই নারায়ণগঞ্জ স্ব-উদ্যোগে তদন্ত ভার গ্রহণ করে এসআই পুলক সরকারকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল এবং নারায়ণগঞ্জ পিবিআই-এর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর দিকনির্দেশনায় আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২ আগস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে সোনারগাঁও থানা এলাকা থেকে জড়িত আসামি মোঃ আওলাদ হোসেন (২৬) এবং মোঃ শাহীন (৩১)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করেন। বিজ্ঞ আদালত আসামিদের ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আসামিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ আগস্ট বিকেলে আসামি শাহীনের বসতঘর থেকে নিহতের স্যামসাং মোবাইল ও সিম কার্ড এবং ৭ আগস্ট রাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোগাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অটোগাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বারদী স্ট্যান্ড থেকে সুলতানশাদী বাজারে যাওয়ার কথা বলে গাড়িটি ভাড়া করে। পথিমধ্যে আড়াইহাজারের গ্রুপদী গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে ওয়ালিউল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যা করে গাড়ি ও ফোন ছিনতাই করে নিয়ে গাড়িটি বিক্রি করে দেয়। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ আগস্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মোঃ শাহীন দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে,এই ঘটনায় হত্যাকান্ডের শিকার ওয়ালিউল্লাহ বাবা হারুনউর রশিদ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত